
অনলাইন ডেস্ক: টানা বর্ষণে রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও লেক সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও পর্যটন স্পটগুলোকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে লেকের পানির উচ্চতা ১০৬ ফুট মীনস সি লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান মানবকণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা ছিল ১০৫.৭৭ ফুট মীনস সি লেভেল। এর আগের দিন, বুধবার (৩০ জুলাই), পানির উচ্চতা ছিল ১০৫.৫৩ ফুট মীনস সি লেভেল। চলতি বছরের মধ্যে গত ২২ জুলাই প্রথমবারের মতো কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ১০০ ফুট মীনস সি লেভেল অতিক্রম করে। যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে লেকের পানি মুহূর্তে মুহূর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরও বলেন, কাপ্তাই লেকের পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট মীনস সি লেভেল। যদি লেকের পানি ১০৮ ফুট মীনস সি লেভেল অতিক্রম করে, তাহলে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট পর্যায়ক্রমে খুলে দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পানি নির্গমন করা হবে। তবে এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা করে নোটিশ আকারে সর্বসাধারণকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটই বর্তমানে চালু রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত এই ৫টি ইউনিট থেকে সর্বমোট ২১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে, ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট করে মোট ৯২ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৭ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রে সাধারণত পানির অভাবে ৫টি ইউনিট একসাথে চালু করা সম্ভব হতো না। চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত বাড়ায় কাপ্তাই লেকে ধীরে ধীরে পানি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে গত ২ জুন থেকে এই কেন্দ্রের ৪টি ইউনিট চালু করা হয়। এরপর গত ৯ জুলাই রাত ৮টায় একযোগে ৫টি ইউনিট চালু করা সম্ভব হয়, সেদিন ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল। এরপর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কখনো ২২০, কখনো ২১৯, আবার কখনো ২২১ মেগাওয়াট পর্যন্ত হয়েছে।এদিকে, টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতু ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কাপ্তাই লেকের তীরবর্তী উপজেলা বরকল, লংগদু, বাঘাইছড়ি এবং বিলাইছড়ির কিছু কিছু নিম্নাঞ্চলও পানিতে ডুবে গেছে।