জানুয়ারি ১৭, ২০২৬


সিঙ্গাপুরের প্রাচীন মসজিদ

সিঙ্গাপুরের প্রাচীন মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক:  অনেকগুলো ক্ষুদ্র দ্বীপ এবং একটি বৃহৎ দ্বীপ নিয়ে গঠিত সিঙ্গাপুর। দেশটির আয়তন ৫৭২ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ত্রিশ লাখের কম। ২০২০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫.৬ শতাংশ।

সিঙ্গাপুরে ইসলাম তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম। মুসলমানরা প্রধানত সুন্নি মুসলমান, যারা হানাফি বা শাফেঈ মাজহাবের অনুসারী। মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ জাতিগতভাবে মালয়। ১৩ শতাংশ ভারতীয় এবং বাকিরা চীনা, ইউরোপীয় ও আরব। শিল্পসমৃদ্ধ সিঙ্গাপুরের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের ইতিহাস

প্রায় চার লাখ মুসলমানের জন্য সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন স্থানে ৮৫টি মসজিদ গড়ে উঠেছে। মসজিদগুলোর মধ্যে ৭৬টি নির্মিত হয়েছে গত শতাব্দীতে। অন্যগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে। সরকারি অনুমোদন নিয়ে সিঙ্গাপুরের ইসলামিক কাউন্সিল সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সহায়তায় আরও ছয়টি মসজিদ নির্মাণের জন্য প্লট ক্রয় করেছে। নির্মিতব্য মসজিদগুলোতে দেড় থেকে দুই হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবে। এ ছাড়া এগুলোতে ইসলামি শিক্ষালাভ এবং পবিত্র কোরআন হেফজ করার ব্যবস্থা আছে। মসজিদগুলো সিঙ্গাপুর ইসলামিক কাউন্সিল (MUIS) দ্বারা পরিচালিত হয়। মসজিদ ছাড়া ইসলাম শিক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে ছয়টি পূর্ণাঙ্গ মাদরাসা রয়েছে।

সেই সিঙ্গাপুরের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের নাম আলকাফ কামপং মালায়ু। সম্প্রতি এর ব্যাপক উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে ২৫ জুলাই মসজিদে যান দেশটির ই

সিঙ্গাপুর ইসলামিক কাউন্সিলের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই মসজিদের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে। এটি দুইটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আনুমানিক ২৬ মাস।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, অভ্যন্তরীণ স্থানগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, প্রবেশযোগ্যতা বাড়ানো এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা। মসজিদের বর্তমান অবকাঠামোটি ৩০ বছর আগে নির্মিত হওয়ায়, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখন তা সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কাউন্সিল। বিশেষ করে, বয়স্ক মুসল্লিদের জন্য আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কাজ।

উন্নয়ন কাজ শেষ হলে মসজিদটির ধারণক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বাড়বে। তখন একসঙ্গে ৩ হাজার ২ শ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৩২ সালে আলকাফ পরিবার প্রথমবারের মতো একটি ছোট মসজিদ হিসেবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের সম্প্রসারণ ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ১৯৯২ সালের ৪ জানুয়ারি নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৯৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করা হয়। যা বর্তমানে ছবিতে দেখা যাচ্ছে ও মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হচ্ছে- প্রধান নামাজের স্থান সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রশাসনিক অফিস নির্মাণ, একটি নতুন চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন এবং মসজিদের বাইরের অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ।

প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- জুমার খুতবায় প্রচারণা, দানবাক্স স্থাপন ও চ্যারিটি ক্যাম্পেইন।

নির্মাণকালীন সময়েও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার জামাত যথারীতি চলবে, যদিও সাময়িকভাবে ধারণক্ষমতা সীমিত থাকবে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুর ইসলামিক কাউন্সিল।

সলাম বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফয়জাল ইবরাহিম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদের উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *